রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বিল্লাল। তিনি মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক।
বিল্লাল প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন, তিনি দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও আকারে ধারণ করেছেন। তবে সে ভিডিও আবার মোবাইল থেকে মুছে ফেলা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তাকে নিয়ে সোমবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিং করে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে কথা বলেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।
এর আগে, সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর নবাবপুরের একটি হোটেল থেকে ধর্ষণ মামলাটির ৪ নম্বর আসামি বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয়।
জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে ধারণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন বিল্লাল। তবে সেটা মোবাইল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিল্লাল র্যাবকে জানান, ধর্ষণের পরে প্রধান আসামি সাফাত ও তার বন্ধু আরেক আসামি নাঈম আশরাফ ধর্ষিতদের জোরপূর্বক গর্ভনিরোধক পিল খাইয়ে দেন। সেদিন ওই হোটেলে দুই তরুণীর এক চিকিৎসক বন্ধুও ছিলেন। সাফাত ও নাঈম নিজেরা জোরাজুরি করার আগে সেই চিকিৎসক বন্ধুকে পাশের রুম থেকে ডেকে এনে দুই ছাত্রীকে গর্ভনিরোধক পিল খাওয়াতে অনুরোধ করার জন্য বলেন সাফাত ও নাঈম। কিন্তু চিকিৎসক ওই অনুরোধ না করায় তারা তাকে ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখান, একইসঙ্গে মারপিট করতে থাকেন। পুরো ঘটনা ভিডিও করতে থাকেন বিল্লাল।
ধর্ষণের সময় কে কোন রুমে থাকবে পুরো বিষয়টি বিল্লাল আগে থেকেই জানতেন বলে র্যাবকে জানান।
জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকালে জানা যায়, বিল্লাল ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিকেল ৪টায় খবর পাওয়া যায়, তিনি পুরান ঢাকার নবাবপুরের দি-নিউ ঢাকা বোর্ডিং হোটেলে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে সুজন নামে অবস্থান নেন। পরে তাকে সেখান থেকে র্যাব-১০ এর একটি টিম গ্রেফতার করে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মামলা দায়েরের পর বিল্লালও সিলেট চলে যান। সিলেট থেকে মামলার প্রধান আসামি সাফাত ও তার সহযোগী আরেক আসামি সাদমান সাকিফকে গ্রেফতারের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং মামলার বিষয়ে কী করা যায় সে নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলাপের চেষ্টা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল আরও জানান, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার সাফাতের সঙ্গে রেইন-ট্রি হোটেলের অষ্টম তলার ভাড়া করা রুমে যান তিনি। এরপর সাফাতের কথা মতো গুলশান-২ থেকে তার এক বান্ধবী এবং বনানী থেকে আরেক বান্ধবীকে নিয়ে সাড়ে ৬টার দিকে ওই রুমে আসেন। সেখানে তখন নাইম আশরাফও ছিলেন। এরপর সাফাতের কথা মতো আবার গিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে তাদের বাসা থেকে নিয়ে আসেন হোটেলে। তখন আগের দুই তরুণী হোটেল থেকে চলে যান।
বিলাসবহুল রেইন-ট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। মাসখানেক আগের ওই ঘটনায় ৬ মে দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলা করার পাঁচদিন পর ১১ মে রাতে সিলেট থেকে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু আরেক আসামি সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার গ্রেফতার করা হলো বিল্লালকেও। এ ঘটনার আরেক আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত ওরফে আবুল কালাম আজাদও গ্রেফতার হয়েছেন ডিবির হাতে। পাঁচ আসামির মধ্যে ধর্ষকদের বন্ধু ও সহযোগী নাঈম আশরাফই এখন পর্যন্ত পলাতক।